The Justice Corner is a leading law firm in Bangladesh, offering specialized legal services to both local and international clients. We serve as trusted advisors to prominent businesses, companies, and banks.

Blog Details

আয়কর নির্দেশিকা - সংশোধিত ও সম্প্রসারিত সংস্করণ — সেপ্টেম্বর ২০২৬

আয়কর নির্দেশিকা - সংশোধিত ও সম্প্রসারিত সংস্করণ — সেপ্টেম্বর ২০২৬

আয়কর নির্দেশিকা

সংশোধিত ও সম্প্রসারিত সংস্করণ — সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিটার্ন প্রস্তুতি ও বৈধ কর সাশ্রয় — স্বাভাবিক ব্যক্তি (Individual) করদাতাদের জন্য, করবর্ষ ২০২৬–২০২৭ (আয়বর্ষ ২০২৫–২০২৬)

দ্য জাস্টিস কর্নার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত — জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬–২০২৭, আয়কর আইন, ২০২৩ এবং সাম্প্রতিক এস.আর.ও-র ভিত্তিতে।

এক নজরে — সংক্ষিপ্ত সংস্করণ

আমাকে কি রিটার্ন দাখিল করতে হবে? হ্যাঁ, যদি বছরে আয় ৪,০০,০০০ টাকার বেশি হয় (মহিলা বা ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব হলে ৪,৫০,০০০ টাকা; প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হলে ৫,২৫,০০০ টাকা)। আয় যত কমই হোক না কেন — আপনি যদি কোনো কোম্পানির পরিচালক হন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ট্রেড লাইসেন্সধারী হন, ২০ লক্ষ টাকার বেশি ব্যাংকঋণ নিয়ে থাকেন, অথবা প্রায় ৪০টি নির্দিষ্ট শ্রেণির যেকোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হন — তাহলেও রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক (দেখুন পর্ব ১)।

কখন দাখিল করব? ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এই সময়ে দাখিল করলে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কর প্রণোদনা (রেয়াত) পাওয়া যায়। মার্চের পর দাখিল করলে উল্টো অতিরিক্ত কর গুনতে হয়। তাড়াতাড়ি দাখিল করা কার্যত বিনামূল্যে অর্থ সাশ্রয়।

বৈধভাবে কর কীভাবে কমাব? অনুমোদিত সঞ্চয় ও বিনিয়োগ খাতে (সঞ্চয়পত্র, ভবিষ্য তহবিল, জীবন বিমা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, পেনশন স্কিম) অর্থ বিনিয়োগ করুন — সরকার সরাসরি করদায় থেকে বাদ দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ৭,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত রেয়াত দেয়। এটিই অধিকাংশ করদাতার জন্য সবচেয়ে বড় ও সহজলভ্য কর সাশ্রয়ের হাতিয়ার — দেখুন পর্ব ৬।

কোথায় দাখিল করব? অনলাইনে, etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে। প্রায় সবার জন্যই অনলাইন দাখিল এখন বাধ্যতামূলক।

ভুল হয়ে গেলে কী করব? মূল রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করে ভুল সংশোধন করা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সহজ ব্যাখ্যা

পরিভাষাসহজ অর্থ
আয়বর্ষযে ১২ মাসে প্রকৃতপক্ষে আয় হয়েছে — সাধারণত ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন।
করবর্ষআয়বর্ষের পরের বছর, যে বছরে সেই আয়ের হিসাব দিয়ে কর পরিশোধ করতে হয়।
টিআইএন (TIN)করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর — একবার নিলে সারাজীবনের জন্য প্রযোজ্য।
উৎসে কর (TDS)নিয়োগকর্তা, ব্যাংক বা ক্লায়েন্ট আপনার অর্থ হাতে দেওয়ার আগেই যে কর সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে দেয়। রিটার্নে এর ক্রেডিট দাবি করা যায় — তবে প্রমাণ সংরক্ষণ করলেই কেবল।
কর রেয়াতকরদায়ের অঙ্ক থেকে সরাসরি বাদ যাওয়া অর্থ — সাধারণ ছাড়ের (deduction) চেয়ে বেশি মূল্যবান, কেননা ছাড় শুধু করযোগ্য আয় কমায়।
সারচার্জআয়কর ছাড়াও অতিরিক্ত এক প্রকার কর, যা আয়ের উপর নয়, বরং সম্পদের (নিট পরিসম্পদ) উপর ভিত্তি করে ধার্য হয়।
পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীরিটার্নের সাথে দাখিলকৃত সম্পদ ও দায়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা।
নিট পরিসম্পদমোট সম্পদ বিয়োগ মোট দায়।

এই নির্দেশিকা সম্পর্কে

এই নির্দেশিকার দুটি লক্ষ্য: সঠিকভাবে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করতে সহায়তা করা, এবং আইনসম্মতভাবে কম কর দেওয়ার উপায় দেখানো।

ব্যবহারিকভাবে এই নির্দেশিকাটি চারটি ধাপে ব্যবহার করা সুবিধাজনক: (১) রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক কি না নির্ধারণ; (২) প্রতিটি প্রাপ্তি সঠিক আয়ের খাতে শ্রেণিবদ্ধ করে করযোগ্য, করমুক্ত ও বিশেষ হারে করযোগ্য অংশ আলাদা করা; (৩) সাধারণ কর, ন্যূনতম কর, বিনিয়োগ রেয়াত, সারচার্জ, অগ্রিম কর ও উৎসে কর্তিত করের ক্রেডিট সমন্বয় করে চূড়ান্ত করদায় নির্ণয়; এবং (৪) আয়ের উৎস, জীবনযাপন ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের পরিবর্তনের সাথে সমাপনী নিট পরিসম্পদ মিলিয়ে দেখা। বাস্তবে অধিকাংশ সমস্যা শুধু গাণিতিক ভুল থেকে নয়, বরং ভুল শ্রেণিবিন্যাস, প্রমাণবিহীন ছাড়, TDS-এর প্রমাণের ঘাটতি এবং সম্পদ-বিবরণীর অমিল থেকে সৃষ্টি হয়।

এটি মূলত স্বাভাবিক ব্যক্তি (individual) করদাতাদের এবং তাঁদের পরামর্শদাতাদের জন্য রচিত। এর ভিত্তি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬–২০২৭ এবং সাম্প্রতিক এস.আর.ও (SRO)।

দুটি বিষয় শুরুতেই স্পষ্ট করে রাখা ভালো:

বৈধভাবে কর সাশ্রয় করা আর আয় গোপন করা এক জিনিস নয়। সরকার নিজেই এমন সুযোগ রেখেছে — যেমন অনুমোদিত খাতে সঞ্চয়কারীদের সরাসরি কর রেয়াত দেওয়া হয়। এসব সুযোগ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ, ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আয় গোপন করা বা তথ্য মিথ্যা উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় — এই নির্দেশিকা তা নিয়ে আলোচনা করে না।

প্রমাণাদিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বর্ণিত প্রায় প্রতিটি অব্যাহতি বা রেয়াতের দাবি তখনই টেকে, যখন তার সমর্থনে রশিদ, ব্যাংক বিবরণী বা সার্টিফিকেট দেখানো যায়। প্রমাণ ছাড়া দাবি আসলে সাশ্রয় নয় — বরং ভবিষ্যতের সমস্যা।

এই নির্দেশিকা ২০২৬–২০২৭ করবর্ষের (১ জুলাই ২০২৫ – ৩০ জুন ২০২৬ আয়বর্ষের) বিধিবিধান, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। প্রতি বছর অর্থ আইনের মাধ্যমে কর আইন পরিবর্তিত হয় — তাই নির্ভর করার আগে সর্বশেষ হার ও ফরম etaxnbr.gov.bd বা nbr.gov.bd থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত। এটিকে একটি শক্তিশালী সূচনা-বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করুন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য পেশাদার পরামর্শের বিকল্প নয়।

পর্ব ১ — মূল ধারণা ও কারা রিটার্ন দাখিল করবেন

আয়বর্ষ ও করবর্ষ

দুটি সময়কাল গুলিয়ে ফেলা সহজ, তাই আলাদা করে বোঝা দরকার:

আয়বর্ষ হলো যে ১২ মাসে প্রকৃতপক্ষে আয় হয়েছে — সাধারণত ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

করবর্ষ হলো তার পরের বছর, যখন সেই আয়ের রিটার্ন দাখিল করে কর পরিশোধ করতে হয়।

অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অর্জিত আয় (আয়বর্ষ) রিপোর্ট করতে হবে ২০২৬–২০২৭ করবর্ষে

কারা রিটার্ন দাখিল করবেন

প্র্যাকটিশনার নোট: কেবল আয়ের অঙ্ক দেখে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা উচিত নয়। করযোগ্য আয় না থাকলেও পরিচালক পদ, পেশাগত মর্যাদা, লাইসেন্স, ঋণ, সম্পত্তি লেনদেন, ক্লাব সদস্যপদ বা অন্য কোনো আইনগত ট্রিগারের কারণে রিটার্ন বাধ্যতামূলক হতে পারে। তাই নতুন ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে প্রথমেই একটি “ফাইলিং ট্রিগার চেকলিস্ট” পূরণ করা উত্তম।

দুটি পৃথক কারণে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে — যেকোনো একটিই যথেষ্ট।

কারণ ক: করমুক্ত সীমার বেশি আয়।

শ্রেণিকরমুক্ত আয়ের সীমা
সাধারণ করদাতা (পুরুষ, ৬৫ বছরের নিচে)৪,০০,০০০ টাকা
মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতা৪,৫০,০০০ টাকা
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা৫,২৫,০০০ টাকা
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা; গেজেটভুক্ত "জুলাই যোদ্ধা"৫,৫০,০০০ টাকা

প্রতিবন্ধী সন্তান/পোষ্যের পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবক নিজের সীমার সাথে প্রতিটি প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা যোগ করতে পারবেন (একই সন্তানের জন্য কেবল একজন এই সুবিধা নিতে পারবেন)।

কারণ খ: নির্দিষ্ট শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত — আয় যতই কম হোক না কেন। আইন অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত শ্রেণির ব্যক্তিদের আয় নির্বিশেষে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক — এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হয়। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি:

পূর্ববর্তী তিন আয়বর্ষের যেকোনো বছরে কর নির্ধারিত হয়েছে বা করযোগ্য আয় ছিল এমন ব্যক্তি;

কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার-কর্মচারী;

ফার্ম বা ব্যক্তি-সংঘের অংশীদার/সদস্য;

ব্যবসায় বেতনভোগী নির্বাহী বা ব্যবস্থাপক;

সরকারি কর্মচারী (গণকর্মচারী);

কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত হারে কর সুবিধা দাবিকারী;

চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার — বা অনুরূপ পেশাজীবী সংস্থার সদস্য;

২০ লক্ষ টাকার বেশি ব্যাংকঋণ গ্রহণকারী;

আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধন সনদ, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য পেশাগত লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নকারী;

সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ বা নবায়নকারী;

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত যেকোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী;

১০ লক্ষ টাকার বেশি স্থায়ী আমানত বা সঞ্চয়পত্রধারী;

সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি/ফ্ল্যাট/ভবন ক্রয়-বিক্রয়, লিজ বা নিবন্ধনকারী;

সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদর বা পৌরসভায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সন্তান ভর্তিকারী;

আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র (এল/সি) খোলা ব্যক্তি; কোম্পানির এজেন্সি বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপ গ্রহণকারী;

কোম্পানি আইন বা সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ/নবায়নকারী;

এবং আরও প্রায় ৩০টি নির্দিষ্ট শ্রেণি — যেমন টেন্ডার দলিল দাখিল, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স, বিবাহ নিবন্ধক, ইটভাটার অনুমতি ইত্যাদি।

সংক্ষেপে: কোনো ক্লায়েন্ট যদি কোম্পানির পরিচালক হন, তালিকাভুক্ত পেশাজীবী হন, সিটি ট্রেড লাইসেন্সধারী হন, বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ নিয়ে থাকেন, বা সিটি এলাকায় সম্পত্তি কিনে থাকেন — তাহলে করযোগ্য আয় শূন্য হলেও রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।

যাদের দাখিল বাধ্যতামূলক নয়: উপরের কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত প্রযোজ্য না হলে এবং আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে, রিটার্ন দাখিল ঐচ্ছিক (তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা করা লাভজনক — দেখুন পর্ব ৬)। বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা নেই এমন অনিবাসী বিদেশি নাগরিকদের জন্যও এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়।

পর্ব ২ — রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া

রিটার্নের ধরন

দুই ধরনের রিটার্ন রয়েছে — অধিকাংশ মানুষ দ্বিতীয়টি ব্যবহার করেন।

রিটার্ন — আইটি-ঘ (২০২৩): একটি সহজ, এক পাতার রিটার্ন। ব্যবহারের জন্য সবকয়টি শর্ত পূরণ করতে হবে: করযোগ্য আয় ৫,০০,০০০ টাকার বেশি নয়; মোট পরিসম্পদ ৫০,০০,০০০ টাকার বেশি নয়; কোনো মোটরযানের মালিক নন; সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোনো গৃহসম্পত্তি/অ্যাপার্টমেন্টের মালিক নন; বাংলাদেশের বাইরে কোনো পরিসম্পদের মালিক নন; এবং কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নন। এতে কেবল ছয়টি তথ্য দিলেই চলে: আয়ের উৎস, মোট পরিসম্পদ, মোট আয়, আরোপযোগ্য কর, কর রেয়াত ও প্রদেয় কর।

রিটার্ন — আইটি-১১গ (২০২৩): বাকি সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ রিটার্ন, সাথে দুটি সহায়ক তফসিল — আইটি-১০বিবি (পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী) এবং আইটি-১০বিবিবি (জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী)।

দাখিলের সময়সীমা ও পদ্ধতি

২০২৬–২০২৭ করবর্ষের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত। এই সময়সীমার মধ্যে ঠিক কখন দাখিল করা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে কর প্রণোদনা পাওয়া যাবে নাকি অতিরিক্ত কর গুনতে হবে (বিস্তারিত পর্ব ৪-এ)। প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারী, অথবা উচ্চশিক্ষা/চাকরি/কর্মের উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে সদ্য প্রত্যাবর্তনকারীরা প্রাসঙ্গিক তারিখ থেকে ৯০ দিন সময় পাবেন।

দাখিল অনলাইনে বাধ্যতামূলক। সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাকে etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত: ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতা; শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা (সনদপত্র সাপেক্ষে); বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা; মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি; এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক — যদিও তাঁরা চাইলে অনলাইনেও দাখিল করতে পারেন। এই তালিকার বাইরে কেউ অনলাইনে দাখিলে সক্ষম না হলে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের নিকট আবেদন করে পেপার রিটার্ন দাখিলের অনুমতি নিতে হবে।

সময়মতো দাখিল না করলে যা হতে পারে: ধারা ২৬৬ অনুযায়ী জরিমানা; ধারা ১৭৪ অনুযায়ী অতিরিক্ত কর; গ্যাস/বিদ্যুৎ সংযোগে জটিলতা; এবং বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তিতে সমস্যা।

রিটার্ন প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি

প্রস্তাবিত নথি-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি: প্রতিটি করদাতার জন্য একটি স্থায়ী Tax File রাখুন, যেখানে আগের বছরের রিটার্ন ও পরিসম্পদ বিবরণী, চলতি বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বেতন সার্টিফিকেট, ভাড়া-সংক্রান্ত নথি, ব্যবসার হিসাব, বিনিয়োগ সনদ, ঋণের বিবরণী, সম্পত্তির দলিল, মোটরযানের কাগজপত্র, TDS সার্টিফিকেট এবং কর চালান থাকবে। রিটার্ন দাখিলের আগে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্ক অন্তত একটি প্রমাণপত্র বা লিখিত হিসাবপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখা উচিত।

আয়ের খাতসাধারণত প্রয়োজনীয় দলিলাদি
চাকরিবেতন বিবরণী/সার্টিফিকেট; ব্যাংক সুদ থাকলে ব্যাংক বিবরণী/সার্টিফিকেট; রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ থাকলে তার প্রমাণ (যেমন জীবন বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধের রশিদ)
গৃহসম্পত্তি (ভাড়া)ভাড়ার চুক্তিনামা/রশিদ, মাসভিত্তিক ভাড়া প্রাপ্তির বিবরণী ও ব্যাংক হিসাব বিবরণী; পৌর/সিটি কর্পোরেশন কর ও ভূমি রাজস্বের রশিদ; ব্যাংক ঋণে ক্রয়/নির্মাণ হলে সুদের সার্টিফিকেট; বিমাকৃত হলে প্রিমিয়ামের রশিদ; শূন্যতা ভাতা দাবি করলে বিদ্যুৎ বিলের কপি
কৃষিবর্গা/ভাগের দলিলাদি; মোট প্রাপ্তির ৬০ শতাংশের বেশি খরচ দাবি করলে তার সমর্থনে দলিলাদি
ব্যবসা বা পেশাআয়-ব্যয়ের বিবরণী (Income Statement) ও স্থিতিপত্র (Balance Sheet), ব্যাংক বিবরণীসহ অন্যান্য প্রমাণক
মূলধনী আয়হস্তান্তরের দলিলের কপি; উৎসে কর জমার চালানের কপি; তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে মুনাফা সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র
আর্থিক পরিসম্পদস্ক্রিপলেস সিকিউরিটিজের CDBL বিবরণী; সুদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র; সঞ্চয়পত্র নগদায়ন/সুদ প্রাপ্তির সময়ের সার্টিফিকেট; ব্যাংক সুদের বিবরণী/সার্টিফিকেট
অন্যান্য উৎসসংশ্লিষ্ট প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র
ফার্মের আয়ফার্মের আয়-ব্যয়ের বিবরণী ও স্থিতিপত্র

পর্ব ৩ — বিভিন্ন খাতে আয় নিরূপণ

মোট আয় হলো প্রযোজ্য প্রতিটি খাতের (হেড) আয়ের সমষ্টি, সংশ্লিষ্ট খাতের অনুমোদিত ছাড় ও অব্যাহতি বাদ দেওয়ার পর। অধিকাংশ মানুষের দুই-তিনটি খাতেই আয় থাকে — যেগুলো প্রযোজ্য কেবল সেগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

চাকরি হতে আয়

চাকরি হতে আয়ের মধ্যে মূল বেতন, সব ধরনের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, বোনাস, বকেয়া বেতন, অস্বীকৃত তহবিলে নিয়োগকর্তার চাঁদা এবং কর্মচারী শেয়ার স্কিম থেকে প্রাপ্ত লাভ অন্তর্ভুক্ত, তবে কিছু নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম আছে। আয়ের বাইরে থাকে: শেয়ারহোল্ডার-পরিচালক নন এমন কর্মচারীর হৃদযন্ত্র, বৃক্ক, চক্ষু, যকৃত ও মস্তিষ্ক সংক্রান্ত অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও ক্যান্সার চিকিৎসা বাবদ নিয়োগকর্তা প্রদত্ত ব্যয়; শুধুমাত্র দাপ্তরিক কাজে ব্যয়িত যাতায়াত/ভ্রমণ/দৈনিক ভাতা; নিয়োগকর্তা প্রদত্ত গোষ্ঠী বীমার প্রিমিয়াম; এবং গোষ্ঠী বীমা পলিসির আওতায় পুনর্বরণকৃত চিকিৎসা ব্যয়।

করমুক্ত অংশ: বেতন আয়ের এক-তৃতীয়াংশ (বাড়ি ভাড়া বাদে) অথবা ৫,০০,০০০ টাকা, যেটি কম, তা করযোগ্য বেতন আয় নির্ণয়ে বাদ যায় — এটি বেতনভোগী করদাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় ও প্রায়ই ভুল গণনা করা হয় এমন একটি সুবিধা।

সহজ উদাহরণ: কোনো বেসরকারি কর্মচারীর প্রাসঙ্গিক বেতন-আয় যদি ১৮,০০,০০০ টাকা হয় এবং আইন অনুযায়ী এক-তৃতীয়াংশ অব্যাহতি প্রযোজ্য হয়, তবে এক-তৃতীয়াংশ ৬,০০,০০০ টাকা হলেও সর্বোচ্চ সীমা ৫,০০,০০০ টাকা হওয়ায় করযোগ্য বেতন নিরূপণের সময় ৫,০০,০০০ টাকা বাদ যাবে। তবে বেতন-উপাদানের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য বিধান যাচাই না করে সরাসরি মোট বেতনের এক-তৃতীয়াংশ বাদ দেওয়া উচিত নয়।

সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারী: এস.আর.ও নং ২২৫-আইন/আয়কর-০৭/২০২৩ অনুযায়ী মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস (যে নামেই অভিহিত হোক না কেন) করযোগ্য, কিন্তু চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়া, কল্যাণ ও বিনোদন, শিক্ষা সহায়ক, ভ্রমণ, শ্রান্তি-বিনোদন, টিফিন, পোশাক, আপ্যায়ন-সহ দীর্ঘ তালিকার নির্দিষ্ট ভাতাসমূহ সম্পূর্ণ করমুক্ত। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বিডিবিএল, বেসিক) কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ২০১৭-১৮ আয়বর্ষ থেকে একই সুবিধা পান।

গৃহসম্পত্তি (বাড়ি ভাড়া) হতে আয়

ব্যবহারিক যাচাই: ভাড়া আয়কে ভাড়ার চুক্তি, ব্যাংকে জমা হওয়া অর্থ, ভাড়াটিয়ার বিবরণ এবং পরিসম্পদ বিবরণীর সাথে মিলিয়ে দেখা উচিত। সম্পত্তি খালি থাকার কারণে শূন্যতা ভাতা দাবি করলে বিদ্যুৎ/গ্যাস বিল, ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার প্রমাণ বা অন্যান্য সমসাময়িক নথি রাখা নিরাপদ।

করযোগ্য ভাড়া আয় নির্ণীত হয় প্রকৃত বা ন্যায্য বাজারমূল্যের ভাড়া (যেটি বেশি) থেকে অনুমোদিত ছাড় বাদ দিয়ে: মেরামত ভাতা (নির্ধারিত হার অনুযায়ী), প্রকৃত পরিশোধিত পৌর/সিটি কর্পোরেশন কর ও ভূমি রাজস্ব, সম্পত্তি ক্রয়/নির্মাণ/মেরামতের ঋণের সুদ, বিমা প্রিমিয়াম, এবং শূন্যতা ভাতা (বছরের অংশবিশেষে সম্পত্তি খালি থাকলে, শূন্য বিদ্যুৎ বিল দিয়ে প্রমাণিত)।

কৃষি হতে আয়

আয়কর আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী গণনা করতে হয়; মোট প্রাপ্তির ৬০ শতাংশের বেশি প্রকৃত খরচ দাবি করলে তার সমর্থনে দলিল দিতে হবে। ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি আয় করমুক্ত, যদি করদাতার কৃষি ও আর্থিক পরিসম্পদ হতে আয় ব্যতীত অন্য কোনো আয় না থাকে (দেখুন পর্ব ৬)।

ব্যবসা বা পেশা হতে আয়

প্র্যাকটিশনার চেক: পেশাজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যয়কে ব্যবসায়িক ব্যয় হিসেবে দেখানো, মূলধনী ব্যয় সরাসরি খরচ হিসেবে দাবি, অবচয় বাদ দেওয়া, নগদ ক্রয়ের যথাযথ প্রমাণ না থাকা, প্রভিশন/অনুমানভিত্তিক ব্যয় এবং ব্যাংক হিসাবের সাথে বিক্রয়/প্রাপ্তির অমিল—এসব বিষয় বিশেষভাবে যাচাই করা উচিত।

মোট বিক্রয় থেকে বিক্রিত মালের ক্রয়মূল্য বাদ দিয়ে গ্রস মুনাফা, তা থেকে অনুমোদিত ব্যবসায়িক খরচ (কর্মচারীর বেতন, ভাড়া, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ফি, পরিবহন ইত্যাদি) বাদ দিয়ে নিট আয় নির্ণয় করতে হয়; মূলধনী ব্যয় (যেমন একটি সরঞ্জাম কেনা) সরাসরি বাদ দেওয়া যায় না, বরং তৃতীয় তফসিলের হার অনুযায়ী অবচয় (depreciation) হিসেবে দাবি করতে হয়।

মূলধনী আয় (Capital Gains)

মূলধনী আয়ের নথি-চেকলিস্ট: অর্জনের দলিল বা সাবস্ক্রিপশন রেকর্ড, ক্রয়মূল্যের প্রমাণ, হস্তান্তরের দলিল বা ব্রোকার স্টেটমেন্ট, হস্তান্তর-সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক ব্যয়ের প্রমাণ, ব্যাংকিং চ্যানেলে মূল্য গ্রহণের রেকর্ড এবং উৎসে কর/অগ্রিম করের চালান সংরক্ষণ করুন। পরিসম্পদ বিবরণীতে সম্পদটি পূর্বে কী মূল্যে প্রদর্শিত ছিল, তাও মিলিয়ে দেখুন।

মূলধনী পরিসম্পদ হস্তান্তরের সময় প্রাপ্ত ন্যায্য মূল্য (বা প্রাপ্ত মূল্য, যেটি বেশি) এবং অর্জন মূল্যের পার্থক্যই মূলধনী আয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা অনুমোদিত ফান্ডের শেয়ার/ইউনিট হস্তান্তর হতে ৫০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করমুক্ত, যদি তা কোম্পানি/ফান্ড থেকেই অর্জিত হয় (স্পনসর, পরিচালক বা প্লেসমেন্ট শেয়ার থেকে নয়)।

জমি হস্তান্তরে দলিল মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে গৃহীত হলে তা মূলধনী আয় হিসেবে গণ্য হবে: অর্জনের ৫ বছরের মধ্যে হস্তান্তর হলে নিয়মিত হারে কর (সপ্তম তফসিল অনুযায়ী ১০%), আর ৫ বছর পর হস্তান্তর হলে সরাসরি ১৫% হারে কর প্রযোজ্য।

নির্দিষ্ট চুক্তির (Specified agreement) আওতায় ডেভেলপারকে জমি হস্তান্তর করে নগদ অর্থ, ফ্ল্যাট বা অন্য সুবিধা পেলে প্রাপ্ত সুবিধার মূল্য থেকে জমির অর্জনমূল্য বাদ দিয়ে যে মুনাফা থাকে, তার উপর সরাসরি ১৫% হারে কর প্রযোজ্য — যা চলতি করবর্ষ ও পরবর্তী দুই করবর্ষে সমান তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা যায়।

ব্যক্তিগত স্বর্ণ, রৌপ্য, স্বর্ণালংকার, রৌপ্যালংকার, রত্ন-হীরক, মূল্যবান ধাতু, চিত্রকর্ম, প্রাচীন সামগ্রী ও ক্লাবের সদস্যপদ হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফাও মূলধনী আয় হিসেবে গণ্য।

Unrealized (অনার্জিত/ধারণাগত) লাভ কখনোই করযোগ্য নয় এবং তা সম্পদ বৃদ্ধির উৎস হিসেবেও দেখানো যাবে না।

আর্থিক পরিসম্পদ হতে আয়

সাধারণ ভুল: ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্রের সুদে উৎসে কর কাটা হয়েছে বলে কেবল নীট প্রাপ্তি আয় হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। সাধারণত গ্রস আয় দেখিয়ে কর্তিত কর আলাদাভাবে ক্রেডিট দাবি করতে হয়। ব্যাংক সার্টিফিকেটের gross interest, TDS এবং net credit—এই তিন অঙ্ক রিটার্নের সাথে মিলিয়ে নিন।

সরকারি বা অনুমোদিত সিকিউরিটিজ, ডিবেঞ্চার, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয় স্কিম ও লভ্যাংশের সুদ/মুনাফা/বাট্টা এই খাতে অন্তর্ভুক্ত। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: উৎসে কর কর্তনকৃত আয় (যেমন ব্যাংক সুদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা) হলেও রিটার্নে গ্রস (মোট, কর্তনের আগের) অঙ্কই দেখাতে হবে, নীট অঙ্ক নয় — এরপর সেই কর্তিত করকে প্রদেয় কর থেকে ক্রেডিট হিসেবে বাদ দিতে হবে।

অন্যান্য উৎস হতে আয়

রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি জ্ঞানের ফি, অস্পর্শনীয় সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার প্রদানজনিত আয় (নিয়মিত ব্যবসায়ের অংশ না হলে), সরকার প্রদত্ত নগদ ভর্তুকি, খনিজ মজুদ/হাইড্রোকার্বন/সুনাম হতে আয়, যেকোনো দান/অনুদান/উপহার, এবং অন্য কোনো খাতে শ্রেণিভুক্ত না হওয়া যেকোনো প্রাপ্তি এই খাতে পড়ে।

ফার্ম/ব্যক্তি-সংঘ ও স্বামী/স্ত্রী-অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আয়

ফার্ম বা ব্যক্তি-সংঘের অংশীদার/সদস্য হলে সেখান থেকে প্রাপ্ত আয়ের অংশ মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে একই মুনাফার উপর দ্বৈত করারোপ এড়াতে আনুপাতিক কর রেয়াত (গড় হারে) পাওয়া যাবে।

উদাহরণ: জনাব নিয়ামত উল্লাহ একটি ফার্মের ১/৩ অংশের অংশীদার। ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত আয়বর্ষে ফার্ম ৯,০০,০০০ টাকা মুনাফা করেছে এবং ৫২,৫০০ টাকা কর পরিশোধ করেছে। তাঁর মুনাফার অংশ = ৯,০০,০০০ ÷ ৩ = ৩,০০,০০০ টাকা। এছাড়া তাঁর গৃহসম্পত্তি হতে আয় ৪,০০,০০০ টাকা এবং তিনি ২,৫০,০০০ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছেন। তাঁর মোট আয় = ৩,০০,০০০ + ৪,০০,০০০ = ৭,০০,০০০ টাকা। এর উপর কর (প্রথম ৪,০০,০০০ শূন্য, অবশিষ্ট ৩,০০,০০০-এ ১০%) = ৩০,০০০ টাকা। এরপর ফার্মের আয়ের অনুপাতে রেয়াত: ৩০,০০০ × (৩,০০,০০০ ÷ ৭,০০,০০০) = ১২,৮৫৭ টাকা। তাই বিনিয়োগ রেয়াতের আগে করদায় দাঁড়ায় ৩০,০০০ − ১২,৮৫৭ = ১৭,১৪৩ টাকা — এরপর সাধারণ বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতও এর উপর প্রযোজ্য হবে।

ধারা ৩১(১) অনুযায়ী, স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পৃথক কর নথি না থাকলে, তাঁরা করদাতার উপর নির্ভরশীল হলে, করদাতার যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ থাকলে, বা করদাতা স্বেচ্ছায় একত্রীকরণ চাইলে — তাঁদের আয় করদাতার নিজের রিটার্নে একত্রে দেখাতে হবে। তবে তাঁদের পৃথক কর নির্ধারণ থাকলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

পর্ব ৪ — করদায় পরিগণনা

২০২৬–২০২৭ করবর্ষের করহার

কর নিরূপণের প্রস্তাবিত ক্রম: প্রথমে প্রতিটি খাতের করযোগ্য আয় নিরূপণ করে মোট আয় বের করুন; এরপর প্রযোজ্য স্ল্যাব রেটে gross tax হিসাব করুন; তারপর ন্যূনতম কর/টার্নওভারভিত্তিক কর প্রযোজ্য কি না পরীক্ষা করুন; বিনিয়োগ রেয়াত ও অন্যান্য অনুমোদিত ক্রেডিট প্রয়োগ করুন; প্রযোজ্য হলে সারচার্জ যোগ করুন; শেষে TDS ও অগ্রিম করের ক্রেডিট বাদ দিয়ে চূড়ান্ত প্রদেয় বা ফেরতযোগ্য অঙ্ক নির্ধারণ করুন।

সাধারণ করদাতা (পুরুষ, ৬৫ বছরের নিচে):

মোট আয়ের ধাপকরহার
প্রথম ৪,০০,০০০ টাকাশূন্য
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা১০%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা২৫%
অবশিষ্ট আয়৩০%

মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতাদের ক্ষেত্রে একই ধাপ প্রযোজ্য, কেবল শূন্য হারের সীমা ৪,৫০,০০০ টাকা। প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের শূন্য হারের সীমা ৫,২৫,০০০ টাকা; গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ৫,৫০,০০০ টাকা।

ন্যূনতম কর

আয় করমুক্ত সীমার বেশি হলে, বিনিয়োগজনিত রেয়াতসহ সকল রেয়াত প্রয়োগের পরেও, করদাতাকে ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা কর দিতে হবে — এমনকি হিসাব শূন্য বা ঋণাত্মক হলেও (প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা)। করদাতা বাংলাদেশের যেখানেই বসবাস করুন না কেন, এই নিয়ম একইরকম প্রযোজ্য। ব্যবসায়ী/পেশাজীবী করদাতাদের জন্য একটি পৃথক ন্যূনতম নিয়ম আছে — টার্নওভারের উপর নির্ণীত কর নিট আয়ের উপর নির্ণীত করের চেয়ে বেশি হলে, টার্নওভার-ভিত্তিক করই প্রযোজ্য হবে (কমিশন ব্যবসা, ডিলারশিপ, মানি এক্সচেঞ্জ এবং স্বর্ণ/রৌপ্য/অলংকার/রত্ন ব্যবসা ব্যতীত)।

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈধ কর সাশ্রয়ের হাতিয়ার

এটি সাধারণ করদাতার জন্য পুরো আইনের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর সুবিধা, তাই ভালোভাবে বুঝে নেওয়া দরকার।

সহজ কথায়: নির্দিষ্ট অনুমোদিত সঞ্চয়/বিনিয়োগ খাতে বছরে অর্থ বিনিয়োগ করলে সরকার একটি ক্রেডিট দেয় — যা প্রদেয় করের অঙ্ক থেকে সরাসরি বাদ যায়, শুধু করযোগ্য আয় থেকে নয়। ক্রেডিট সাধারণ ছাড়ের চেয়ে বেশি মূল্যবান: ১০,০০০ টাকার ছাড় হয়তো ১,৫০০ টাকা কর বাঁচায়, কিন্তু ১০,০০০ টাকার ক্রেডিট সম্পূর্ণ ১০,০০০ টাকাই বাঁচায় (নিচের সীমার মধ্যে)।

রেয়াতের পরিমাণ — নিম্নোক্ত তিনটির মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেটিই রেয়াত:

১. রেয়াতযোগ্য মোট আয়ের ৩% (মোটামুটি, কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও হ্রাসকৃত হারের আয় বাদে মোট আয়); ২. প্রকৃত বার্ষিক অনুমোদিত বিনিয়োগ/দানের ১০%; অথবা ৩. ৭,৫০,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ সীমা)।

উদাহরণ: ধরা যাক করযোগ্য আয় ৯,৮০,০০০ টাকা এবং অনুমোদিত বিনিয়োগ ৩,১৭,০০০ টাকা। তুলনা করলে: ৩% × ৯,৮০,০০০ = ২৯,৪০০ টাকা; ১০% × ৩,১৭,০০০ = ৩১,৭০০ টাকা; এবং সীমা ৭,৫০,০০০ টাকা। সবচেয়ে কম অঙ্কটি হলো ২৯,৪০০ টাকা — এটিই রেয়াত, যা সরাসরি করদায় থেকে বাদ যাবে।

রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ/দানের খাত:

রেয়াত পরিকল্পনার ব্যবহারিক সূত্র: শুধু “কত বিনিয়োগ করেছি” তা নয়, ৩% আয়-সীমা, ১০% বিনিয়োগ-সীমা এবং ৭,৫০,০০০ টাকার সর্বোচ্চ সীমা—তিনটিই আগে হিসাব করুন। উদাহরণস্বরূপ, ১০,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেও যদি রেয়াতযোগ্য আয়ের ৩% মাত্র ৬০,০০০ টাকা হয়, তবে রেয়াত ১,০০,০০০ টাকা নয়, ৬০,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে।

জীবন বিমার প্রিমিয়াম, বা চুক্তিভিত্তিক Deferred Annuity;

স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা (Provident Fund Act, 1925 অনুযায়ী);

অনুমোদিত নিয়োগকর্তা-কর্মচারী ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা;

অনুমোদিত আনুতোষিক (পেনশন) তহবিলে চাঁদা;

সরকারি সিকিউরিটিজে ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ;

অনুমোদিত ইউনিট সার্টিফিকেট, মিউচুয়াল ফান্ড বা ইটিএফ-এ নতুন বিনিয়োগ;

স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চারে নতুন বিনিয়োগ;

ডিপোজিট পেনশন স্কিমে (মাসিক সঞ্চয়) বছরে সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত;

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যেকোনো পরিমাণ চাঁদা — কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই;

যাকাত তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা বা দান;

অনুমোদিত দাতব্য হাসপাতাল, প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্থাপিত সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধে আহত ব্যক্তিদের কল্যাণে, icddr,b এবং CRP সাভারে দান;

সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান — এর মধ্যে এস.আর.ও ২১৩/২০২৬ অনুযায়ী নতুন করে অন্তর্ভুক্ত ১১টি প্রতিষ্ঠান (৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বলবৎ): ASHIC (Foundation for Childhood Cancer), বাংলাদেশ ক্যান্সার এইড ট্রাস্ট (BANCAT), আল-মারকাজুল ইসলামী, Disabled Child Foundation (DCF), শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি, মাওনা ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি, অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক (BRAC), রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন (ঢাকা), এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল;

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে অনুদান।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: রেয়াত পাওয়ার শর্ত হলো বিনিয়োগের সম্পূর্ণ মেয়াদকাল বজায় রাখা — মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করলে (যেমন সঞ্চয়পত্র আগেভাগে ভাঙানো) সেই বছরের গৃহীত রেয়াতের অংশ অতিরিক্ত কর হিসেবে ফেরত দিতে হয়।

সম্পদের ভিত্তিতে সারচার্জ

এটি নিয়মিত আয়করের উপর একটি অতিরিক্ত কর, যা আয়ের নয় বরং নিট পরিসম্পদের (মোট সম্পদ বিয়োগ মোট দায়) উপর নির্ভর করে ধার্য হয়।

নিট পরিসম্পদসারচার্জের হার
৪ কোটি টাকা পর্যন্তশূন্য
৪ কোটি টাকার অধিক, ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত — অথবা নিজ নামে একাধিক মোটরযানের মালিক — অথবা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৮,০০০ বর্গফুটের অধিক আয়তনের গৃহসম্পত্তির মালিক১০%
১০ কোটি টাকার অধিক, ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত২০%
২০ কোটি টাকার অধিক, ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত৩০%
৫০ কোটি টাকার অধিক৩৫%

লক্ষণীয়: শুধু ৪ কোটি টাকা অতিক্রম করাই একমাত্র শর্ত নয় — নিজ নামে দ্বিতীয় গাড়ি বা সিটি কর্পোরেশনে বড় বাড়ি থাকলেও নিট পরিসম্পদ ৪ কোটির অনেক নিচে থাকলেও ১০% সারচার্জ প্রযোজ্য হয়ে যায়।

উদাহরণ: একজন করদাতার নিট পরিসম্পদ ২ কোটি টাকা হলেও যদি তাঁর নিজ নামে দুইটি মোটরযান থাকে, তবে সম্পদ ৪ কোটি টাকার নিচে হওয়া সত্ত্বেও ১০% সারচার্জের ট্রিগার প্রযোজ্য হতে পারে। সারচার্জের হার নিট সম্পদের উপর সরাসরি বসে না; এটি প্রযোজ্য আয়করের উপর শতাংশ হিসেবে গণনা করা হয়।

সম্পদনির্বিশেষে দুটি পৃথক নির্দিষ্ট-হার সারচার্জও রয়েছে: সিগারেট, বিড়ি, জর্দা বা অনুরূপ তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারীর ব্যবসায়িক আয়ের উপর ২.৫%; এবং আইন অনুযায়ী প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবস্থা না রাখা স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের উপর ২.৫%

উল্লেখযোগ্য: সারচার্জ প্রদেয় করের একটি শতাংশ, সম্পদের নয় — তাই নিয়মিত আয়কর শূন্য হলে (যেমন আয় করমুক্ত সীমার নিচে), যত সম্পদই থাকুক না কেন, সারচার্জও শূন্যই হবে।

মোটরযানের অগ্রিম কর ও পরিবেশ সারচার্জ

মোটরযান যাচাই তালিকা: গাড়ির সংখ্যা, নিবন্ধিত মালিকের নাম, ইঞ্জিন সিসি/কিলোওয়াট, ফিটনেস নবায়নের তারিখ, প্রদত্ত অগ্রিম কর এবং পরিবেশ সারচার্জের চালান সংগ্রহ করুন। পরিবারের অন্য সদস্যের নামে গাড়ি থাকলে প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎসের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রিটার্নের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা জরুরি।

মোটরযানের মালিক হলে নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের সময় ইঞ্জিন ক্যাপাসিটির (দাহ্য জ্বালানি চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে) বা কিলোওয়াটের (বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে) ভিত্তিতে নির্ধারিত অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হয় — ১,৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির জন্য ২৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪,৫০০ সিসির অধিক গাড়ির জন্য ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত, আর মাইক্রোবাস ও ডাবল কেবিন পিকআপের জন্য নির্দিষ্ট ৪০,০০০ টাকা। একাধিক গাড়ির মালিক হলে প্রথমটির পরের প্রতিটি গাড়ির জন্য ৫০% অতিরিক্ত হারে অগ্রিম কর দিতে হয়।

এছাড়া একাধিক মোটরযানের মালিকের জন্য প্রতিটি গাড়ির উপর পৃথক পরিবেশ সারচার্জ প্রযোজ্য, একই রকম সিসি-ভিত্তিক স্কেলে (২৫,০০০ থেকে ৩,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত)। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি পরিবেশ সারচার্জ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতিপ্রাপ্ত — পরবর্তী গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে বিবেচনার বিষয়।

উভয় কর/সারচার্জ ফেরতযোগ্য নয় এবং অন্য কোনো করের সাথে সমন্বয়যোগ্য নয়। তবে নিয়মিত করের চেয়ে বেশি অগ্রিম কর ইতোমধ্যে পরিশোধিত হয়ে থাকলে, অতিরিক্ত অংশ ফেরত না পেলেও নতুন করে কোনো বাড়তি বোঝা চাপবে না।

কর পরিশোধ ও উৎসে কর্তিত করের ক্রেডিট

সকল কর (নিয়মিত নির্ধারণ, অগ্রিম কর এবং উৎসে কর্তনকারীর জমাকৃত অর্থ) এ-চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয় — সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে, অথবা মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ, বিকাশ, রকেট), ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড দিয়ে। বছরে ইতোমধ্যে উৎসে কর্তিত কর এবং প্রদত্ত অগ্রিম কর চূড়ান্ত করদায় থেকে ক্রেডিট হিসেবে বাদ যায়; কেবল অবশিষ্ট অংশ রিটার্নের সাথে পরিশোধ করতে হয়। যাদের আয় থেকে উৎসে কর কর্তন হয়েছে, তাঁদের অবশ্যই কর্তনকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ই-পেমেন্ট চালান/প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা উচিত — প্রমাণ ছাড়া দাবিকৃত উৎসে করের ক্রেডিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

পর্ব ৫ — রিটার্ন দাখিলের পর

দাখিলের পর সংরক্ষণযোগ্য নথি: অনলাইন acknowledgment/রিটার্ন রসিদ, জমাকৃত রিটার্নের PDF কপি, computation sheet, wealth reconciliation, A-Challan, TDS certificates এবং যে সকল নথির ভিত্তিতে অব্যাহতি/রেয়াত/ব্যয় দাবি করা হয়েছে সেগুলোর কপি একত্রে রাখুন। পরবর্তী বছরে opening wealth ও আগের বছরের closing wealth মিলানোর জন্য এই ফাইল অপরিহার্য।

কর প্রত্যর্পণ (Refund)

বছরে পরিশোধিত কর (অগ্রিম কর + উৎসে কর্তিত কর) চূড়ান্ত করদায়ের চেয়ে বেশি হলে, অতিরিক্ত অংশ ফেরতযোগ্য। করদাতা চাইলে তা সরাসরি ফেরত দাবি করতে পারেন, অথবা পরবর্তী বছরের করদায়ের সাথে সমন্বয় করতে পারেন। শুধু চাকরি, আর্থিক পরিসম্পদ ও কৃষি হতে আয় আছে এমন করদাতাদের ক্ষেত্রে সাধারণত রিটার্ন প্রসেসিং করেই প্রত্যর্পণ নির্ধারিত হয়; অন্যান্য ক্ষেত্রে উপকর কমিশনারের শুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়।

সংশোধিত রিটার্ন

সতর্কতা: সংশোধিত রিটার্নকে “নতুন করে পরিকল্পনা করার সুযোগ” হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি প্রকৃত ভুল বা বাদ পড়া তথ্য সংশোধনের ব্যবস্থা। মূল রিটার্নের তুলনায় আয়, সম্পদ বা দায়ে বড় পরিবর্তন আনলে তার কারণ ও প্রমাণ লিখিতভাবে প্রস্তুত রাখা উচিত।

কোনো ভুল হয়ে থাকলে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করে তা ঠিক করা যায় — যেমন প্রদর্শিত আয়, দাবিকৃত অব্যাহতি/ক্রেডিট ভুল হলে, বা অডিটে গরমিল পাওয়া গেলে। কিছু শর্ত মানতে হবে: লিখিত কারণ উল্লেখ করতে হবে; ইতোমধ্যে নির্ধারিত করদায় কমানো যাবে না; যথাযথ দলিলপ্রমাণ ছাড়া পূর্বে প্রদর্শিত সম্পদ-দায় পরিবর্তন করা যাবে না; এবং মূল রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিন পর, একবার সংশোধনের পর পুনরায়, অথবা অডিটের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর — এসব ক্ষেত্রে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যাবে না।

দেরিতে বা রিটার্ন দাখিল না করার পরিণাম

সময়মতো দাখিলে পুরস্কার এবং দেরিতে দাখিলে জরিমানা — এই দুই নীতির মধ্যে পার্থক্য অনেকের ধারণার চেয়েও বেশি:

দাখিলের সময়ফলাফল
১ জুলাই – ৩০ সেপ্টেম্বরকর প্রণোদনা: ধারা ১৭৩ অনুযায়ী প্রদেয় করের ৫%, অথবা ২৫,০০০ টাকা, যেটি কম
১ অক্টোবর – ৩১ ডিসেম্বরকোনো প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর নেই
১ জানুয়ারি – ৩১ মার্চঅতিরিক্ত কর: প্রদেয় করের ২%, অথবা ৩,০০০ টাকা, যেটি বেশি
১ এপ্রিল – ৩০ জুনঅতিরিক্ত কর: প্রদেয় করের ৫%, অথবা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি
৩০ জুন ২০২৭-এর পর, স্বপ্রণোদিতভাবে দাখিলনিয়মিত করের পাশাপাশি ধারা ১৭৩ অনুযায়ী প্রদেয় করের ১০%, অথবা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি
শুধুমাত্র নোটিশ পাওয়ার পর দাখিলধারা ১৭৩ অনুযায়ী প্রদেয় করের ১৫%, অথবা ১০,০০০ টাকা, যেটি বেশি

এসব চার্জের বাইরেও দেরিতে বা রিটার্ন দাখিল না করলে ধারা ২৬৬ অনুযায়ী জরিমানা, সুদ ও বাস্তবিক জটিলতা — গ্যাস/বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে সমস্যা, বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে বিলম্ব — হতে পারে। সংক্ষেপে: ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিল করাই বিনা খরচে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কর বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ ও নিশ্চিত উপায়।

উদাহরণসহ ব্যাখ্যা

উপরের নিয়মগুলো বাস্তব উদাহরণে প্রয়োগ করলে অনেক বেশি স্পষ্ট হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশিকা থেকে নেওয়া তিনটি সাধারণ প্রোফাইল নিচে দেখানো হলো।

উদাহরণ ১ — সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা

জনাব শরিফুল ইসলাম রূপালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত আয়বর্ষে তিনি পেয়েছেন: মাসিক মূল বেতন ৩৫,৫০০ টাকা; মাসিক বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৪,২০০ টাকা; দুটি উৎসব বোনাস (মূল বেতনের সমান, মোট ৭১,০০০ টাকা); চিকিৎসা ভাতা ১৮,০০০ টাকা; বোনাস (ইনসেনটিভ) ১,০৬,৫০০ টাকা; এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা ৭,১০০ টাকা। তিনি ভবিষ্য তহবিলে মাসে ৪,০০০ টাকা চাঁদা দেন (যাতে বছরে ৩৩,৫০০ টাকা সুদ অর্জিত হয়েছে), কল্যাণ তহবিলে মাসে ১৫০ টাকা এবং গোষ্ঠী বিমায় মাসে ১০০ টাকা।

যেহেতু তিনি সরকারি বেতন আদেশভুক্ত (এস.আর.ও ২২৫/২০২৩), তাঁর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা সম্পূর্ণ করমুক্ত — কেবল মূল বেতন, বোনাস ও ইনসেনটিভই করযোগ্য বেতন:

খাতপরিমাণ (টাকা)
মূল বেতন (৩৫,৫০০ × ১২)৪,২৬,০০০
উৎসব বোনাস৭১,০০০
বোনাস (ইনসেনটিভ)১,০৬,৫০০
করযোগ্য বেতন আয়৬,০৩,৫০০

রেয়াতের আগে করদায়: প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা শূন্য, অবশিষ্ট ২,০৩,৫০০ টাকায় ১০% = ২০,৩৫০ টাকা

রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ: নিজের ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা (৪৮,০০০) + কল্যাণ তহবিল (১,৮০০) + গোষ্ঠী বিমা (১,২০০) = ৫১,০০০ টাকা। রেয়াত হলো এই তিনটির মধ্যে সবচেয়ে কম: ৩% × ৬,০৩,৫০০ = ১৮,১০৫ টাকা; ১০% × ৫১,০০০ = ৫,১০০ টাকা; বা ৭,৫০,০০০ টাকার সীমা — তাই রেয়াত ৫,১০০ টাকা

প্রদেয় কর: ২০,৩৫০ − ৫,১০০ = ১৫,২৫০ টাকা। (উল্লেখ্য: তাঁর ভবিষ্য তহবিলের ৩৩,৫০০ টাকা সুদ করমুক্ত এবং করযোগ্য আয়ে যুক্ত হবে না, তবে তহবিলের জমা স্থিতি অবশ্যই পরিসম্পদ বিবরণীতে দেখাতে হবে।)

উদাহরণ ২ — শিক্ষক ও গৃহশিক্ষকতার আয়

জনাব তৌফিকুর রহমান একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং পাশাপাশি বাসায় গৃহশিক্ষকতা করেন। স্কুলের বেতন: মূল বেতন মাসে ৪০,০০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসে ১৫,৫০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা মাসে ২,০০০ টাকা, দুটি উৎসব বোনাস (মূল বেতনের সমান), এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা ১০,০০০ টাকা। গৃহশিক্ষকতায় তিনি ৪টি ব্যাচে ৮ জন করে মোট ৩২ জন ছাত্র পড়ান, জনপ্রতি মাসে ৪,০০০ টাকা করে নেন।

খাতপরিমাণ (টাকা)
মোট বেতন প্রাপ্তি (মূল বেতন + বাড়ি ভাড়া + চিকিৎসা + বোনাস + নববর্ষ ভাতা)৭,৮০,০০০
বাদ: বেতন খাতে করমুক্ত অংশ — মোট প্রাপ্তির ⅓ অংশ (২,৬০,০০০) বা ৫,০০,০০০ টাকা, যেটি কম(২,৬০,০০০)
করযোগ্য বেতন আয়৫,২০,০০০
গৃহশিক্ষকতা হতে আয় (৪ ব্যাচ × ৮ জন × ৪,০০০ টাকা × ১২ মাস)১৫,৩৬,০০০
মোট করযোগ্য আয়২০,৫৬,০০০

রেয়াতের আগে করদায়: প্রথম ৪,০০,০০০ শূন্য; পরবর্তী ৩,০০,০০০-এ ১০% (৩০,০০০); পরবর্তী ৪,০০,০০০-এ ১৫% (৬০,০০০); পরবর্তী ৫,০০,০০০-এ ২০% (১,০০,০০০); অবশিষ্ট ৪,৫৬,০০০-এ ২৫% (১,১৪,০০০) — মোট ৩,০৪,০০০ টাকা

তিনি বছরে ৪,০০,০০০ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। রেয়াত হলো: ১০% × ৪,০০,০০০ = ৪০,০০০ টাকা; ৩% × ২০,৫৬,০০০ = ৬১,৬৮০ টাকা; বা সীমা — সবচেয়ে কম ৪০,০০০ টাকা

প্রদেয় কর: ৩,০৪,০০০ − ৪০,০০০ = ২,৬৪,০০০ টাকা।

(একটি বাড়তি বিষয়: তিনি লটারিতে ১০,০০,০০০ টাকা জিতেছিলেন, যার উপর ইতোমধ্যে ২,৫০,০০০ টাকা উৎসে কর কর্তিত হয়েছে। লটারি বা অনুরূপ পুরস্কারের আয় নির্দিষ্ট হারে উৎসে করযোগ্য এবং বিনিয়োগ রেয়াতের আওতায় পড়ে না — তবে কর্তিত কর অন্যান্য উৎসে করের মতোই চূড়ান্ত করদায় থেকে ক্রেডিট হিসেবে বাদ যাবে।)

উদাহরণ ৩ — ক্ষুদ্র অনলাইন উদ্যোক্তা

মিজ রিমি রায় এসএমই ফাউন্ডেশনে নিবন্ধিত একটি অনলাইন শাড়ির ব্যবসা চালান, পাশাপাশি ফেসবুক ও ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরি করে আয় করেন। বছরে তাঁর অনলাইন শাড়ি বিক্রি থেকে আয় ৬,৩০,০০০ টাকা; সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট ও ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় ৭,২৫,০০০ টাকা; এবং সঞ্চয়পত্রের সুদ ২০,০০০ টাকা (যার উপর ২,০০০ টাকা উৎসে কর কর্তিত)। তিনি ডিপোজিট পেনশন স্কিমে বছরে ৭২,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

খাতপরিমাণ (টাকা)করযোগ্য?
অনলাইন শাড়ি বিক্রি (ব্যবসায়িক আয়)৬,৩০,০০০হ্যাঁ
ফেসবুক/ইউটিউব কনটেন্ট আয়, ফ্রিল্যান্সিং৭,২৫,০০০না — ডিজিটাল রপ্তানি সেবার অব্যাহতির আওতায়
সঞ্চয়পত্রের সুদ২০,০০০হ্যাঁ
মোট করযোগ্য আয়৬,৫০,০০০

রেয়াতের আগে করদায় (মহিলাদের করমুক্ত সীমা ৪,৫০,০০০ টাকা ব্যবহার করে): প্রথম ৪,৫০,০০০ শূন্য; অবশিষ্ট ২,০০,০০০-এ ১০% = ২০,০০০ টাকা

রেয়াত: ৩% × ৬,৫০,০০০ = ১৯,৫০০ টাকা; ১০% × ৭২,০০০ (তাঁর ডিপিএস বিনিয়োগ) = ৭,২০০ টাকা; বা সীমা — সবচেয়ে কম ৭,২০০ টাকা

রেয়াতের পরে কর: ২০,০০০ − ৭,২০০ = ১২,৮০০ টাকা। বাদ: ইতোমধ্যে পরিশোধিত উৎসে কর (সঞ্চয়পত্রের সুদের উপর ২,০০০ টাকা) = প্রদেয় কর ১০,৮০০ টাকা

এই উদাহরণে পর্ব ৬-এর দুটি কৌশল একসাথে কাজ করেছে: তাঁর আয়ের একটি বড় অংশ (কনটেন্ট ও ফ্রিল্যান্সিং) সম্পূর্ণ করমুক্ত, এবং নিয়মিত ডিপিএস সঞ্চয় বাকি আয়ের করদায় কমিয়েছে।

পর্ব ৬ — বৈধভাবে কর সাশ্রয়ের উপায়

নিচের প্রতিটি কৌশলই আইনসম্মত — কোনোটিতেই আয় গোপন করার প্রয়োজন নেই। এসব মূলত আইন যে পছন্দের সুযোগ দিয়েছে তা কাজে লাগানো — কখন দাখিল করছেন, কীভাবে সঞ্চয় করছেন, এবং কোথায় সম্পদ রাখছেন, তার উপর ভিত্তি করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি কৌশল:

১. প্রতি বছর সম্পূর্ণ ৭,৫০,০০০ টাকার বিনিয়োগ রেয়াত কাজে লাগান। ২. ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করুন। ৩. নিজ নামে দ্বিতীয় গাড়ি বা সিটি এলাকায় বড় বাড়ি কেনার আগে দুবার ভাবুন — এতে একাই সারচার্জ চালু হয়ে যেতে পারে। ৪. কোনো আয়কে করযোগ্য ধরে নেওয়ার আগে করমুক্ত আয়ের তালিকা যাচাই করুন। ৫. প্রতিটি দাবির সমর্থনে প্রমাণাদি সংরক্ষণ করুন — প্রমাণ ছাড়া সাশ্রয় টেকে না।

১. বিনিয়োগ রেয়াতের সীমা পরিকল্পিতভাবে পূরণ করুন, প্রতি বছর। রেয়াতের সীমা যেহেতু আয়ের ৩%, বিনিয়োগের ১০%, বা ৭,৫০,০০০ টাকা — এই তিনটির মধ্যে সর্বনিম্ন, তাই কোন সীমাটি আপনার জন্য প্রযোজ্য তা বের করে সেই পর্যন্ত বিনিয়োগ করুন — জীবন বিমা, ভবিষ্য তহবিল, সরকারি সঞ্চয়পত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিম (বছরে ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত), সর্বজনীন পেনশন স্কিম, বা তালিকাভুক্ত কোম্পানির নতুন শেয়ার/মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে। এগুলো একইসাথে ভালো অবসর-পরিকল্পনাও বটে — তাই কর সাশ্রয় ও আর্থিক পরিকল্পনা একই দিকে এগোয়। শুধু মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করবেন না — তাহলে পূর্বে নেওয়া রেয়াত পরবর্তীতে অতিরিক্ত কর হিসেবে ফেরত দিতে হবে।

২. অনুমোদিত তালিকার প্রতিষ্ঠানে দান করুন। যাকাত এবং নির্দিষ্ট অনুমোদিত হাসপাতাল/দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান — এস.আর.ও ২১৩/২০২৬-এ উল্লিখিত ১১টি প্রতিষ্ঠানসহ (ASHIC, BANCAT, আল-মারকাজুল ইসলামী প্রভৃতি, দেখুন পর্ব ৪) — বিনিয়োগ রেয়াতের হিসাবে যুক্ত হয়। তালিকার বাইরের কোনো কারণে দান করলে তা মহৎ কাজ হলেও কর সাশ্রয় হবে না। কর সাশ্রয় গুরুত্বপূর্ণ হলে দানের আগে তালিকা যাচাই করে নেওয়া ভালো।

৩. ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিল করুন। এককভাবে এতেই ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে, এবং জানুয়ারির পর দাখিল করলে যে ক্রমবর্ধমান অতিরিক্ত কর গুনতে হয়, তা এড়ানো যায়। কাগজপত্র একটু আগে গুছিয়ে রাখা ছাড়া এতে কোনো বাড়তি খরচ নেই।

৪. বেতনের করমুক্ত অংশ সঠিকভাবে হিসাব করুন। বেতনের এক-তৃতীয়াংশ (বাড়ি ভাড়া বাদে) অথবা ৫,০০,০০০ টাকা, যেটি কম, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করমুক্ত — এর জন্য আলাদা করে দাবি করতে হয় না, কিন্তু প্রায়ই ভুল গণনা হয়। সরকারি কর্মচারী হলে এর বাইরেও দীর্ঘ তালিকার নির্দিষ্ট ভাতা (চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়া, ভ্রমণ, উৎসব) সম্পূর্ণ করমুক্ত।

৫. কৃষিই যদি মূল আয়ের উৎস হয়, অব্যাহতি দাবি করুন। কৃষি ও আর্থিক পরিসম্পদ (যেমন ব্যাংক সুদ) ছাড়া অন্য কোনো আয় না থাকলে প্রথম ৫,০০,০০০ টাকা কৃষি আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত — যা অবসরপ্রাপ্ত বা কৃষিনির্ভর পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রাসঙ্গিক।

৬. শেয়ারবাজারের অব্যাহতি কাজে লাগান। তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা ফান্ডের শেয়ার/ইউনিট বিক্রি থেকে ৫০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করমুক্ত, যদি তা কোম্পানি/ফান্ড থেকেই কেনা হয়ে থাকে (স্পনসর, পরিচালক বা প্লেসমেন্ট শেয়ার থেকে নয়)। ব্রোকারের বিবরণী সংরক্ষণ করুন — এটিই এই অব্যাহতি নির্ঝঞ্ঝাটে দাবির প্রমাণ। মনে রাখবেন, বিক্রি না করা (অনার্জিত) মুনাফা কখনোই করযোগ্য নয় এবং তা আয় হিসেবে দেখানো উচিত নয়।

৭. দ্বিতীয় গাড়ি বা বড় সিটি বাড়ি কেনার আগে ভাবুন। নিজ নামে দ্বিতীয় গাড়ি, বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৮,০০০ বর্গফুটের বেশি বাড়ি — এককভাবেই ১০% সম্পদ সারচার্জ চালু করে দেয়, মোট সম্পদ ৪ কোটির অনেক নিচে থাকলেও। পরিবারে সত্যিকারের প্রয়োজনে দ্বিতীয় গাড়ি লাগলে, সেটি পরিবারের অন্য সদস্যের নামে (যাঁর নিজস্ব পৃথক কর নথি আছে) নিবন্ধন করা — বাস্তব ও যথাযথভাবে করা হলে — এই সারচার্জ এড়াতে সাহায্য করতে পারে। একই যুক্তি পরিবেশ সারচার্জ ও দ্বিতীয় গাড়ির ৫০% বাড়তি অগ্রিম করের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য — আর বৈদ্যুতিক গাড়ি এখন পরিবেশ সারচার্জ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

৮. যথাযথ হলে স্বামী/স্ত্রীর পৃথক রিটার্ন বিবেচনা করুন। ডিফল্টভাবে নির্ভরশীল স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আয় নিজের রিটার্নে একত্রীকরণ করতে হয়। কিন্তু স্বামী/স্ত্রীর সত্যিকারের স্বাধীন আয় থাকলে (নিজের চাকরি, ব্যবসা বা সম্পদ) — তিনি নিজের টিআইএনে পৃথক রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। এতে পরিবারের জন্য কার্যত দুটি করমুক্ত সীমা ও দুটি রেয়াত সীমা পাওয়া যায়। এটি কেবল প্রকৃত, পৃথকভাবে-মালিকানাধীন আয় ও সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য — শুধু কর কমানোর জন্য নামমাত্র অর্থ স্থানান্তর এই সুবিধা দেয় না এবং প্রশ্নের সম্মুখীন হলে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৯. কোন আয় করমুক্ত তা জানুন, এবং সেভাবেই দেখান (বাদ দেবেন না)। বিস্ময়করভাবে দীর্ঘ একটি তালিকা করমুক্ত, যেমন: সরকারি পেনশন তহবিল হতে গৃহীত পেনশন ও বকেয়া পেনশন; সরকারি অনুমোদিত তহবিল হতে ২.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আনুতোষিক; স্বীকৃত ভবিষ্য/পেনশন/আনুতোষিক তহবিলে জমাকৃত অর্থ ও তার আয়; বৈধ চ্যানেলে দেশে আনা বৈদেশিক রেমিট্যান্স; ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড ও অনুরূপ সঞ্চয়পত্রের সুদ; এসএমই ফাউন্ডেশনে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র/কুটির শিল্পের আয় (নারী বা প্রতিবন্ধী-মালিকানাধীন হলে ৭০ লক্ষ টাকা, অন্যথায় ৫০ লক্ষ টাকা টার্নওভার পর্যন্ত); সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স-সহ নির্দিষ্ট তালিকার আইটি/ডিজিটাল রপ্তানি সেবা (৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত, ব্যাংকিং চ্যানেলে সম্পাদিত হতে হবে); স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন বা পিতামাতা-সন্তানের মধ্যে উপহার (উভয়ের রিটার্নে প্রদর্শিত হতে হবে); এবং উপরে বর্ণিত শেয়ারবাজারের মুনাফা। মূল কথা: করমুক্ত আয়ও রিটার্নের করমুক্ত আয়ের কলামে দেখাতে হবে — একেবারে বাদ দেওয়া কোনো সাশ্রয় নয়, বরং একটি ভুল।

১০. সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলে সেই রেয়াতও দাবি করুন। নিজস্ব অর্থায়নে (যথাযথ নেট-মিটারিং অনুমোদন ও ক্রয়চুক্তিসহ) সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারীর আয় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ করমুক্ত। এছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলে, বিদ্যুৎ বিলের সৌর অংশের ৫% সমপরিমাণ কর রেয়াত পাওয়া যায় — সামান্য মনে হলেও প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়, অথচ দাবি করা সহজ।

১১. যোগ্য হলে সহজ রিটার্ন ফরম ব্যবহার করুন। পর্ব ২-এ বর্ণিত শর্ত পূরণ করলে (আয়, সম্পদ ও সম্পদের ধরন অনুযায়ী) আইটি-ঘ এক পাতার রিটার্ন ব্যবহার করলে পূর্ণাঙ্গ রিটার্নের বিস্তারিত পরিসম্পদ বিবরণী থেকে রেহাই মেলে। এতে কর কমে না, কিন্তু কাগজপত্র ও ভুলের ঝুঁকি কমে।

১২. ব্যবসায়ী হলে ছাড় দাবির আগে দুই পদ্ধতিতেই হিসাব করুন। ন্যূনতম কর ও টার্নওভার কর একেকটি কঠোর সীমা হওয়ায়, কম মার্জিনের বছরে অতিরিক্ত খরচ দাবি করলেও চূড়ান্ত করদায় নাও কমতে পারে, যদি এই সীমার একটি প্রযোজ্য হয়ে যায়। খরচ কতটা দাবি করবেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উভয় পদ্ধতিতে হিসাব করে দেখা ভালো।

১৩. প্রমাণাদি সবসময় দাবির চেয়ে এগিয়ে রাখুন। উপরের প্রতিটি কৌশলের ভিত্তি হলো প্রয়োজনে প্রমাণ দেখাতে পারা: জমি লেনদেনে দলিলের পাশাপাশি ব্যাংক রেকর্ড, বিমা রেয়াতের প্রিমিয়াম রশিদ, শেয়ার বিক্রির ব্রোকার বিবরণী, উৎসে করের ক্রেডিটের জন্য চালান। পরিসম্পদ বিবরণীতে বিশেষভাবে: বছরের শুরুর নিট সম্পদ + এই বছরের আয় ও উপহার − জীবনযাপন ব্যয় = বছরের শেষের নিট সম্পদ — এই সমীকরণ হুবহু মিলতে হবে। কোনো অমিল থাকলে তা অপ্রদর্শিত (গোপন) আয় হিসেবে গণ্য হয়। এই একটি মিলকরণই বাস্তবে যেকোনো হার বা রেয়াতের হিসাবের চেয়ে বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তাই এতে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া উচিত।

সহজ Wealth Reconciliation Model: Opening Net Wealth + করযোগ্য আয় + করমুক্ত আয় + প্রকৃত উপহার/অন্যান্য ব্যাখ্যাত অর্থপ্রবাহ − পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনযাপন ব্যয় − পরিশোধিত কর = Closing Net Wealth (প্রযোজ্য non-cash item ও valuation adjustment সাপেক্ষে)। ফলাফল সমাপনী পরিসম্পদ বিবরণীর সাথে না মিললে রিটার্ন দাখিলের আগে পার্থক্যের কারণ বের করুন। সাধারণ কারণ হলো বাদ পড়া ব্যাংক ব্যালেন্স, সম্পদ ক্রয় দেখাতে ভুল, একই ব্যয় দুইবার ধরা, ঋণ একদিকে দেখিয়ে অন্যদিকে না দেখানো এবং আগের বছরের closing wealth ভুলভাবে আনা।

পর্ব ৬-এর সবকিছুই বৈধ, প্রকাশিত কর পরিকল্পনা — আইন নিজেই যে সুযোগ দিয়েছে, তার ব্যবহার। এতে আয় গোপন করা, দলিলবিহীন লেনদেন, বা প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো পরিকল্পনার কর সুবিধা যদি লেনদেনের প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতার বদলে তা কীভাবে "বর্ণনা" করা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে, তাহলে নির্ভর করার আগে তা আইনজীবীর মাধ্যমে পর্যালোচনা করানো উচিত।

পর্ব ৭ — সাধারণ ভুলগুলো (এনবিআরের নিজস্ব প্রশ্নোত্তর থেকে)

চূড়ান্ত Pre-filing Review: রিটার্নকে শুধু একটি data-entry form হিসেবে নয়, একটি সমন্বিত আর্থিক বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করুন। একাধিক সম্পত্তি, ব্যবসা, শেয়ার/সিকিউরিটিজ, ঋণ, বিদেশি সম্পদ, বড় অঙ্কের উপহার বা নিট সম্পদে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন থাকলে second-person review বা independent checking করা বিশেষভাবে উপযোগী।

একই বছরে একাধিক নিয়োগকর্তা: আয়বর্ষে যতগুলো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, প্রতিটির বেতন-ভাতা দেখাতে হবে, শুধু বর্তমান চাকরিরটি নয়।

টিআইএন ইতোমধ্যে নেওয়া থাকলে: নতুন করে টিআইএন নেওয়ার প্রয়োজন নেই, একবার নিলেই তা চিরস্থায়ী।

সামান্য পরিমাণ সুদ: এফডিআর বা সঞ্চয়ী হিসাবের সুদ যত কমই হোক, রিটার্নে দেখাতেই হবে — কোনো ছাড় নেই।

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট): ৩০ জুন তারিখের স্থিতি হাতে নগদ হিসেবে পরিসম্পদ বিবরণীতে দেখাতে হবে।

যৌথ ব্যাংক হিসাব: কেবল করদাতার নিজের অংশীদারিত্বের অনুপাতে অংশ দেখাতে হবে।

পাশাপাশি বাড়তি আয় (যেমন চাকরির পাশাপাশি গৃহশিক্ষকতা): বছরে অর্জিত সব আয়ই দেখাতে হবে, তা মূল পেশা না হলেও।

সরকারি ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ): সুদ করমুক্ত হলেও রিটার্নে দেখাতে হবে, এবং সঞ্চিত জিপিএফ স্থিতি পরিসম্পদ-দায় বিবরণীতে দেখাতে হবে।

প্রথমবার পুরনো সম্পদ দেখানো: বর্তমান বাজারমূল্য যতই কম বা বেশি হোক, সম্পদটি তার প্রকৃত অর্জন/ক্রয়মূল্যে দেখাতে হবে।

উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ: অর্জনের (উত্তরাধিকারের) তারিখের ন্যায্য বাজারমূল্যে দেখাতে হবে, দলিলের উল্লিখিত মূল্যে নয়।

দাখিলের পর ভুল সংশোধন: প্রকৃত ভুল দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করে ঠিক করা যায়।

শুধু পিতামাতার নামে থাকা সম্পদ: সন্তানের নিজের রিটার্নে পিতামাতার পৃথকভাবে থাকা সম্পদ দেখানোর প্রয়োজন নেই (এবং দেখানো উচিতও নয়)।

জমি কিনে তার উপর ভবন নির্মাণ: পরিসম্পদ বিবরণীতে জমি ও নির্মাণ ব্যয় — দুটোই দেখাতে হবে, শুধু জমি নয়।

অমীমাংসিত ব্যাংকঋণ: দায় বিবরণীতে দেখাতে হবে; ঋণের আসল অংকের উপর কোনো আয়কর প্রযোজ্য নয়।

স্বামী/স্ত্রীর অর্থে অন্যজনের নামে সম্পদ ক্রয়: উভয়ের রিটার্নে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হতে হবে।

করদাতার মৃত্যু: তাঁর কর সংক্রান্ত দায়-দায়িত্ব ও চলমান কার্যক্রম তাঁর আইনগত প্রতিনিধির উপর বর্তায়; ওয়ারিশগণের ঐকমত্যে বা উপকর কমিশনারের মনোনয়নে একজন প্রতিনিধি নির্ধারিত হবেন।

চাকরি ছাড়া বা ব্যবসা বন্ধ হওয়া: তবুও যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট বছরের রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

ব্যক্তিগত বনাম ব্যবসায়িক খরচ: কখনোই একটির বদলে অন্যটি দেখানো যাবে না।

বিদেশে অবস্থিত সম্পদ: নিবাসী ও অনিবাসী উভয় বাংলাদেশি করদাতাকেই বিদেশে থাকা সব সম্পদ দেখাতে হবে।

কয়েক বছর ধরে রিটার্ন দাখিল না করা থাকলে: প্রতিটি বছরের জন্য পৃথকভাবে ও ক্রমানুসারে রিটার্ন দাখিল করতে হবে, একত্রে নয়।

নির্দেশিকার অতিরিক্ত ব্যবহারিক পরামর্শ: দাখিলের সময়সীমার শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না — তাড়াহুড়ায় ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে; আগের বছরের সমাপনী নিট সম্পদ এই বছরের প্রারম্ভিক নিট সম্পদের সাথে মিলতে হবে; আয়, ব্যয়, বিনিয়োগ ও সম্পদের সহায়ক কাগজপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুন; পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার ব্যয় সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন; উৎসে কর কর্তনের প্রমাণ সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করুন — প্রমাণ ছাড়া ক্রেডিট পাওয়া যাবে না; ডিপিএস/জীবন বিমার ক্ষেত্রে চলতি বছরের চাঁদার পাশাপাশি পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণও দেখান; করমুক্ত আয় থাকলে তা যথাযথভাবে উল্লেখ করুন; একাধিক ক্রেডিট কার্ড থাকলে প্রতিটির তথ্য সঠিকভাবে দিন; এবং অর্জিত তহবিল ও পরিসম্পদের প্রকৃত পরিবৃদ্ধির পার্থক্য সবসময় শূন্য হতে হবে।

পর্ব ৮ — প্র্যাকটিশনারের চূড়ান্ত রিটার্ন চেকলিস্ট

করদাতার নাম, TIN, কর সার্কেল/জোন এবং যোগাযোগের তথ্য আগের বছরের রিটার্নের সাথে মিলেছে কি না।

রিটার্ন দাখিলের বাধ্যতামূলক ট্রিগারগুলো আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না।

সব ব্যাংক হিসাব, FDR, DPS, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার/সিকিউরিটিজ এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ৩০ জুনের স্থিতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না।

বেতন, ব্যবসা, ভাড়া, কৃষি, আর্থিক পরিসম্পদ, মূলধনী আয় এবং অন্যান্য উৎস—প্রতিটি আয়ের খাত সম্পূর্ণভাবে শনাক্ত হয়েছে কি না।

করমুক্ত আয় বাদ না দিয়ে যথাযথ exempt income অংশে দেখানো হয়েছে কি না।

বিনিয়োগ রেয়াতের প্রতিটি দাবি রশিদ/সার্টিফিকেট দ্বারা সমর্থিত এবং আইনগত সীমার মধ্যে আছে কি না।

TDS claim-এর প্রতিটি অঙ্ক সংশ্লিষ্ট certificate/challan-এর সাথে মিলেছে কি না।

জমি, ফ্ল্যাট, নির্মাণ ব্যয়, মোটরযান, স্বর্ণালংকার, শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদের acquisition cost ও চলতি বছরের পরিবর্তন সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কি না।

ঋণ ও দায়ের closing balance সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/ঋণদাতার নথির সাথে মিলেছে কি না।

আগের বছরের closing net wealth = চলতি বছরের opening net wealth কি না।

আয় + করমুক্ত আয় + উপহার/অন্যান্য ব্যাখ্যাত উৎস − জীবনযাপন ব্যয় − কর = সম্পদ বৃদ্ধির সাথে যৌক্তিকভাবে মিলেছে কি না।

জীবনযাপন ব্যয় বাস্তবসম্মত এবং ব্যাংক/ক্রেডিট কার্ড/পারিবারিক তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

একাধিক গাড়ি বা ৮,০০০ বর্গফুটের বেশি সিটি কর্পোরেশন গৃহসম্পত্তির কারণে সারচার্জ ট্রিগার হয়েছে কি না।

রিটার্ন দাখিলের পর acknowledgment, return copy, computation এবং supporting file আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না।

পরিশিষ্ট — সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনসমূহ

প্রজ্ঞাপনতারিখপ্রভাব
এস.আর.ও ২১১-আইন/আয়কর-২/২০২৬৮ জুন ২০২৬নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে সম্পূর্ণ আয়কর অব্যাহতি (৩০ জুন ২০৩৫ পর্যন্ত), যথাযথ নেট-মিটারিং অনুমোদন ও ক্রয়চুক্তি সাপেক্ষে; সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর বিলের সৌর অংশের উপর ৫% কর রেয়াত। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর।
এস.আর.ও ২১৩-আইন/আয়কর-৪/২০২৬৮ জুন ২০২৬বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের আওতায় দান গ্রহণযোগ্য এমন ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত কার্যকর।
এস.আর.ও ৩৬২-আইন/আয়কর-১৭/২০২৫১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৪ সংশোধন করে ভাড়া ইত্যাদির উপর উৎসে কর নির্ণয়ে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক/আবাসিক/শিল্প প্লটের শ্রেণিবিভাগ (ক-শ্রেণি, খ-শ্রেণি, গ-শ্রেণি, ঘ-শ্রেণি, ঙ-শ্রেণি, চ-শ্রেণি) হালনাগাদ করা।
এস.আর.ও ২৬৮-আইন/আয়কর-১৩/২০২৫২৪ জুন ২০২৫পূর্ববর্তী দুটি উৎসে কর অধিক্ষেত্র সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল। ১ জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর।
এনবিআরের অধিক্ষেত্র আদেশ (উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহ)২২ জুলাই ২০২৬ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক এক্সচেঞ্জ ও সরকারি দপ্তর কর্তৃক কর্তিত উৎসে কর কোন কর অঞ্চল/ইউনিটে জমা দিতে হবে তা প্রদত্তের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ — মূলত উৎসে কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রাসঙ্গিক, ব্যক্তি করদাতার নিজ রিটার্নের জন্য নয়।
বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৬ (এনবিআর, ২৮ জুন ২০২৬)২৮ জুন ২০২৬স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য etaxnbr.gov.bd-এ অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমী শ্রেণিসহ (৬৫+ বছর বয়স; প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত; বিদেশে অবস্থানরত অনিবাসী বাংলাদেশি; মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি; বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক)।

দাবিত্যাগ

এই নির্দেশিকাটি রচনাকালীন সময়ে প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক চর্চার একটি সাধারণ দিকনির্দেশনা মাত্র। এটি কোনো নির্দিষ্ট করদাতার পরিস্থিতির জন্য পেশাদার পরামর্শের বিকল্প নয়, এবং প্রতি বছর অর্থ আইন ও এনবিআরের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে করহার, সীমা, অব্যাহতিযোগ্য খাত ও পদ্ধতিগত নিয়মাবলি পরিবর্তিত হয়। স্বাধীনভাবে বর্তমান আইন যাচাই না করে এবং প্রয়োজনে পেশাদার পরামর্শ না নিয়ে এই নির্দেশিকার উপর নির্ভর করার ফলে সৃষ্ট কোনো দায় দ্য জাস্টিস কর্নার গ্রহণ করবে না।